This is default featured slide 1 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 2 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 3 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 4 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 5 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

Showing posts with label ইতিহাস. Show all posts
Showing posts with label ইতিহাস. Show all posts

Tuesday, June 23, 2020

যেভাবে ক্রুসেডের কঠিন জবাব দিয়েছিল মুসলিমরা (The way Muslims responded by the Crusades had a strong answer)

Crusades picture


খ্রিস্টান সাম্রাজ্যের অধিপতি পোপ দ্বিতীয় আরবানের সময় ১০৯৯ খ্রিস্টাব্দে প্রথমবারের মতো মুসলিমদের বিরুদ্ধে ক্রুসেড ঘোষণা করে ইউরোপীয় ক্রুসেডাররা। তৎকালীন খ্রিস্টানদের দৃষ্টিতে এই ‘পবিত্র যুদ্ধ’ শেষ হয় ১২৯১ সালে। বারো শতকের একেবারে শুরুর দিকে শুধু পবিত্র নগরী জেরুজালেমই নয়, মুসলিম অধ্যুষিত লেভান্ট (ইরাক, সিরিয়া, তুরস্ক, মিসর, লেবানন, জর্দান, ফিলিস্তিন) অঞ্চলের বিরাট একটি অংশ দখলে নেয় ক্রুসেডাররা। এই সময়েই ক্রুসেডারদের হাতে চলে যায় ইসলামের তৃতীয় পবিত্র ধর্মীয় স্থান আল-আকসা।

বিরাট এই অঞ্চলের দখল এর আগে চারশো বছর ধরে বিশ্ব ক্ষমতায় থাকা মুসলিমদের মর্মাহত করে তোলে। জেরুজালেম দখলে নিয়ে ভূখণ্ড শাসনে নতুন ব্যবস্থা চালু করে ক্রুসেডাররা (Crusades)। স্থানীয় মুসলিম, ইহুদি এবং খ্রিস্টানদের নিজ ভূমি থেকে উৎখাত করে তারা। পশ্চিম ইউরোপ থেকে অভিবাসী এনে তাদের স্থায়ী আবাস গড়ে।

মিসরের আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক আফাফ সাবরা বলেন, ‘ওই সমস্ত মানুষজন ছিল দাস ও ভূমিদাস শ্রেণী থেকে আসা। ইউরোপে তাদের কোনো অধিকার ছিল না।

তারা যখন আমাদের এখানে এলো, তারা ভূস্বামী হয়ে উঠলো, তাদের জীবন পাল্টে গেলো। তাদের সামাজিক অবস্থা বদলে গেলো। ফলে জনসংখ্যা ও সামাজিক স্তরবিন্যাসও পাল্টে গেলো।’

শুধু তাই নয়, প্রথম ক্রুসেডের কমান্ডাররা- ইউরোপে যারা নিম্ন শ্রেণীর যোদ্ধা ছিল- তারা দখলকৃত ভূখণ্ডে রাজকীয়ভাবে চলাফেরা শুরু করলো। ১১০০ সালের জুলাই মাসে প্রথম ক্রুসেডের (Crusades) অন্যতম নেতা বোলজোনার বাল্ডউইনকে জেরুজালেমের সম্রাট ঘোষণা করা হয়।

জাকাজিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের প্রধান অধ্যাপক কাসেম আবদু কাসেম বলেন, ‘জেরুজালেমে রাজতন্ত্র স্থাপনের ফলে এডেসা ও অ্যান্টিঅকের (রোমান ভূখণ্ড) জন্য আরব ভূমিতে আসা সহজ হয়ে যায়। নতুন উপনিবেশবাদী নেতারা খুব সহজেই তাদের রাজত্ব বাড়াতে থাকে।

এক দশকের মধ্যেই লেভান্ট উপকূলের বেশিরভাগ ক্রুসেডারদের হাতে চলে যায়। পূর্বাঞ্চলে খ্রিস্টান ছিটমহলের সংখ্যা দাঁড়ায় চারে। এর সঙ্গে ত্রিপোলিও (বর্তমান লিবিয়ার রাজধানী) দখল করে তারা।

যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব কেন্টের ইতিহাস বিভাগের গবেষক জ্যান ভেন্ডেবুরি বলেন, ‘উপকূলীয় অঞ্চলগুলো ছিল ক্রুসেডারদের জন্য অত্যন্ত অত্যন্ত কৌশলগত স্থান- খাদ্য সরবরাহের জন্যও, তীর্থযাত্রী পরিবহণের জন্যও। সুতরাং উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ক্রুসেডারদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল।’

যুদ্ধপরবর্তী অর্থনৈতিক অবস্থা থেকে ক্রুসেডেররা (Crusades) লাভবান হতে শুরু করে। তারা তাদের বাহিনী নিয়ে লেভান্টের তৎকালীন রাজধানী আলেপ্পোর দিকে যাত্রা করে।

সেই সময়ে আলেপ্পোর শাসক ছিলেন রেদওয়ান, যাকে বলা হতো, ‘মেরুদণ্ডহীন, ‘চাটুকার’ শাসক। ক্রুসেডারদের সঙ্গে সখ্য ছিল তার। তার ব্যাপারে এমন কথাও প্রচলিত আছে, আলেপ্পো মসজিদে খ্রিস্টানদের ক্রুশ ঝুলিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। এর তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায় স্থানীয় মুসলিমদের মধ্যে। অনেকেই তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে।

এই বিদ্রোহ ছিল অপ্রতিরোধ্য। দুর্বল হওয়া সত্ত্বেও তারা বাগদাদের খলিফার কাছে এর বিরুদ্ধে পদক্ষেপের দাবি জানায়। আব্বাসীয় খলিফা আল-মুস্তাজহির সেলজুক সুলতানদের কাছে সাহায্য চান।

মসুলের গভর্নর মওদুদকে আদেশ দেয়া হয় তার বাহিনী জড়ো করে ক্রুসেডারদের আলেপ্পো দখল প্রতিহত করতে। এতে সফল হন তিনি। আপাতত ক্রুসেডারদের হাত থেকে শহরটি রক্ষা করা গেলেও রেদওয়ানের বাহিনীর বাধার মুখে এর ভেতরে প্রবেশ করা যায়নি।

সাবরা বলেন, ‘এই সময়েই দামেস্কের গভর্নর তোঘতেইন জেরুজালেম রাজত্বের আক্রমণের শিকার হন। তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসে মওদুদের বাহিনী। আস-সানাবার যুদ্ধে বাল্ডউইনের বাহিনীর মুখোমুখি হয় মওদুদের বাহিনী। এতে শেষ পর্যন্ত মুসলিমদের হাতে ক্রুসেডাররা পরাজিত হয়।’

সারজাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের অধ্যাপক মুহাম্মদ মোনেস আওয়াদ বলেন, ‘মুসলিমদের প্রতিহত করতে ক্রুসেডাররা তাদের মধ্যে বিভক্তি তৈরি করে রাখতো। এজন্য দায়ী ছিল অজ্ঞ মুসলিম শাসকরা। কিন্তু নতুন পরিস্থিতিতে মুসলিমের জন্য একটি একক ফ্রন্ট তৈরি হলো।’

এতদিন ধরে জেরুজালেমের সঙ্গে একটি যুদ্ধবিরতি চলছিল দামেস্কের। ইমাদুদ্দিন জেঙ্গি নতুন করে সেনা অভিযানের প্রস্তুতি নিলেন। ১১৪৪ সালের ২৫ ডিসেম্বর তার সেনাবাহিনী এডেসা আক্রমণ করে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তার নিয়ন্ত্রণ নেয়। এই প্রথম ক্রুসেডারদের কোনো রাজ্য মুসলিমদের অধীনে এলো।

ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের অধ্যাপক জোনাথন ফিলিপস বলেন, ‘এটি ছিল একটি বড় উত্তরণ। প্রকৃত সূচনা। ওই অঞ্চলের মুসলিমদের মধ্যে ‘জিহাদের’ পুনরুজ্জীবন। ক্রুসেডারদের (Crusades) জন্য এটি একটি বড় পরাজয়। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়, তারাও পরাজিত হতে পারে এবং মুসলিমদের পুনরুজ্জীবন সম্ভব।’ 

Thursday, June 18, 2020

আলেকজান্ডার দি গ্রেটের শেষ ইচ্ছা (Alexander the Great's last wish)

Alexander the Great's last wish


আলেকজান্ডার দি গ্রেট’ বেঁচেছিলেন মাত্র ৩২ বছর। এই ছোট্ট জীবনে তিনি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন প্রাচীন যুগের অন্যতম বিশাল সাম্রাজ্য।

এত বড় এই যোদ্ধা মারা গিয়েছিলেন সামান্য জ্বরে আক্রান্ত হয়ে, নিজের সাম্রাজ্যের বাইরে অন্য রাজ্যে। খুব ইচ্ছা ছিল তার নিজের প্রাসাদে ফিরে মরবেন, কিন্তু মৃত্যু তাকে সেই সময় দেয়নি।
  
মৃত্যুশয্যায় ‘আলেকজান্ডার দি গ্রেট’ তার জেনারেলদের ডেকে তিনটি শেষ ইচ্ছার কথা বলেছিলেন।
● তার কফিন কবরস্থানে বহন করে নিয়ে যাবে তার সাম্রাজ্যের শ্রেষ্ঠ ডাক্তারেরা।
  
● তাকে বহন করার রাস্তাজুড়ে ছড়িয়ে দেয়া হবে তার অগাধ সম্পদ– টাকা, স্বর্ণ, মণিমুক্তা – যা কিছু তিনি তার ঈর্ষণীয় সাফল্যমণ্ডিত জীবনে অর্জন করেছিলেন।
● তার হাত দুটো কফিন থেকে বাইরের দিকে ঝুলিয়ে দেয়া হবে।
  
আলেকজান্ডারের এই অদ্ভূত ইচ্ছাগুলো শুনে তার এক জেনারেল অবাক হয়ে তাকে প্রশ্ন করলে আলেকজান্ডার ব্যাখ্যা করলেন।

তিনি বললেন, আমি চাই পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ডাক্তারেরা আমার কফিন বহন করুক, যাতে মানুষ উপলব্ধি করতে পারে যে, মৃত্যু যখন আসবে তখন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ডাক্তারেরা একসঙ্গে মিলেও সারিয়ে তুলতে পারবে না।
  
আমি চাই আমার কবরস্থানে যাওয়ার পথ সম্পদে ছড়িয়ে থাকুক, যাতে সবাই দেখতে পায় যে এই দুনিয়ায় অর্জিত সম্পদ দুনিয়াতেই থেকে যাবে।

আমি চাই আমার হাত দুইটা কফিন থেকে বাইরের দিকে ঝুলে থাকুক, যাতে মানুষ শিক্ষাগ্রহণ করতে পারে যে আমরা এই দুনিয়ায় খালে হাতে এসেছিলাম, যখন সময় ফুরিয়ে যাবে তখন আবার খালি হাতেই চলে যাবো।
  
ঘটনা থেকে শিক্ষা
আমরা কবরে কোনও সম্পদ নিয়ে যাবো না, রেখে যাওয়া ভালো কাজগুলোই শুধু আমাদের কাজে লাগবে। এই পৃথিবীর সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হলো সময়,

কারণ আমাদের প্রত্যেকের আয়ু নির্ধারিত করা আছে। আমরা পরিশ্রম করে টাকা-পয়সা অর্জন করতে পারবো, কিন্তু একটা সেকেন্ড সময়ও আমরা কিনতে পারবো না।

Sunday, June 14, 2020

রোহিঙ্গা শরণার্থী মালয়েশিয়ায় আশ্রয় চায় (Rohingya refugees seeking shelter in Malaysia)

Rohingya


মালয়েশিয়ায় 62 হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা রয়েছে, মায়ানমারের নিজ বাড়িতে নিপীড়ন থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছে কিন্তু স্থায়ীভাবে বসবাস করতে পারছে না। 45 বছর বয়সী শাজেন বিবি মায়ানমার থেকে মালয়েশিয়ায় চার বছর আগে তার ছয় সন্তানের সাথে একটি নৌকাতে করে উত্তাল সাগর পাড়ি দিয়ে জীবনকে হাতের মুঠোয় নীয়ে পালিয়ে এসেছিলেন।প্রাথমিকভাবে, তিনি রাখাইন রাজ্যের মংডু থেকে বিতাড়িত হন যদিও তিনি তার বাড়ি ছেড়ে যেতে অনিচ্ছুক ছিলেন।

শাজেন বিবি  স্মৄতিচারণ করে বলেন, "আমার গ্রামে, জীবন ভাল ছিল,আমরা ভালো ছিলাম,"এরপর মায়ানমারের সামরিক বাহিনী আমাদের জন্য জীবন কঠিন করে তুলতে শুরু করল।তারা হায়েনার মত আক্রমণ শুরু করলো।তারা আমাদেরকে মারধর করে, আমাদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেয় এবং আমাদের জমি নিয়ে যায়।আমাদের দুধের শিশুকে জলন্ত আগুনে নিক্ষেপ করে। "

শাজেন বিবি একজন রোহিঙ্গা, মিয়ানমারের একটি মুসলিম জাতিগত সংখ্যালঘু যাদের কে মূলত মায়ায়মার সেনাবাহিনী রাষ্ট্র থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে। মায়ানমার সরকার তাদের প্রতিবেশী বাংলাদেশ থেকে অবৈধ অভিবাসী হিসেবে গণ্য করে এবং কয়েক দশক ধরে তাদের নির্যাতন করে আসছে।তার স্বামী তখন মালয়েশিয়ায় বাস করতে,একটি ভয় বিহিন ও হতাশা গ্রস্থ জীবন থেকে নিস্তার পাবার আশায় আদম পাচার কারী চক্রের মাধ্যমে মালেয়শিয়াতে এসে পৌছায়।

শাজেন বিবি স্মৄতিচারণ করেন যখন তার পরিবার ও অন্যান্য মানুষের সঙ্গে নৌকা উপর ছিল তখন সমুদ্র  ছিল রুক্ষ।নৌকাটি আবদ্ধ ছিল এবং সেখানে প্রচুর খাদ্য ও জল ছিল না।এক যাত্রী এই প্রতিকুলতার মাঝে বেঁচে ছিল না। "আমি ভয় পেয়েছিলাম। আমি ভাবলাম আমিও মারা যাব," বিবি বললেন।নৌকা টি থাইল্যান্ডের ভুখন্ডে ভিড়ে।সেখানে থেকে, মালয়েশিয়ায় স্থানান্তরিত হওয়ার আগে উদ্বাস্তুদের থাই মূল ভূখন্ডে নেয়া হয়েছিল।উত্তর মালয়েশিয়ায় কেদার রাজ্যের রাজধানী আলোর সেতারে বিবি ও তার সন্তানরা এসে আশ্রয় নেয়।

মালয়েশিয়ায় 62 হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা বাস করছে।কিছু বছর ধরে সেখানে আছে।অনেকের যাত্রা এখানে শেষ হয় কারণ থাইল্যান্ড থেকে মালয়েশিয়ায় বেশ কয়েকটি এন্ট্রি পয়েন্ট রয়েছে, যা প্রায়ই মায়ানমার থেকে ট্রানজিট রুট অংশ হিসাবে ব্যবহ্রত হয়। বিবির পরিবারটি শহরের বাইরে একটি গ্রামে একটি লম্বা কাঠের ঘর ভাড়া করে বসবাস করে।তার তিন সন্তান খরচ মেটানোর জন্য বাহিরে কাজ করে।কিন্তু কোন আইনগত অবস্থা ছাড়াই, তারা শুধুমাত্র ক্ষুদ্রাকৃতির কাজ করতে সক্ষম এবং শোষণের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

মালয়েশিয়ার জাতিসংঘের শরণার্থী কনভেনশনের স্বাক্ষরকারী দেশ নয় এবং এভাবে শরণার্থীদের সুরক্ষা প্রদান করে না।শরণার্থীরা আইনত কাজ করতে পারে না বা সরকারী স্কুল যেমন পাবলিক স্কুলে ভর্তি হবার অধিকার পায় না।বিবি তার সন্তানের স্বাস্থ্য সমস্যার জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগ আছেন। "এখন আমার স্বামী আর এখানে নেই, আমিও ভাবি যে আমি যদি চলে যাই তবে তাদের কী হবে।"

সব শরণার্থী গল্প নীরব হয়, তবে মালয়েশিয়ায় 17 বছর পর, 33 বছর বয়সী এনামুল্লা বিন শুনা মিয়া শেষপর্যন্ত তৃতীয় দেশ নিউজিল্যান্ডে চলে যাচ্ছেন । তার আশ্রয়ের আবেদন তৃতীয় প্রচেষ্টায় অনুমোদিত হয়।"আমি আবেদন করার পরিকল্পনা করিনি। আমি এখানে জীবনের সাথে আরামদায়ক ছিলাম, কিন্তু আমি আমার বাচ্চাদের সম্পর্কে ভাবি।আমরা যদি এখানে থাকি তাহলে তাদের ভবিষ্যতে কি ধরনের হবে?শুনা মিয়া বলেন।তিনি চান তাদের সন্তানদের, যাদের বয়স ছয় থেকে 11 বছর বয়সী, তাদের একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পেতে এবং তাদের স্বপ্ন পূরণের একটি সুযোগ দিতে।

"আমার বড় ছেলে পুলিশের চাকুরী নিতে চায়।দ্বিতীয় পুত্র প্রকৌশলী হতে চায়।এবং আমার কনিষ্ঠ কন্যা বলে যে সে একজন শিক্ষক হতে চায়। "

Wednesday, June 10, 2020

খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সংগ্রামের জীবন (Khaleda Zia's political struggle life)


prime minister of bangladesh


বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে চড়াই -অতিক্রম করেছেন। সংগ্রাম আর নানা মুখী বিপর্যয়ের মধ্যদিয়ে তার জীবন অতিক্রান্ত হয়েছে। খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উত্থান-পতনে গ্রেফতারের ঘটনাও নতুন নয়। এরশাদের স্বৈরশাসনামলে তিনি তিনবার গ্রেফতার হয়েছিলেন। খালেদা জিয়া প্রথম গ্রেফতার হন ১৯৮৩ সালের ২৭ নভেম্বর। দ্বিতীয়বার তাকে গ্রেফতার করা হয় ১৯৮৪ সালের ৩ মে। এ ছাড়া ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর পূর্বাণী হোটেলে খালেদা জিয়া আশ্রয় নেয়ার পর পুলিশ তাকে টেনেহিঁচড়ে তুলে নিয়ে গিয়ে বাড়িতে অন্তরীণ করে রাখে। ২০০৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর তাকে সেনাসমর্থিত ফখরুদ্দীন সরকার গ্রেফতার করে। মোট এক বছর এক সপ্তাহ জেলবন্দী থাকার পর ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর তিনি মুক্তি পান। গতকাল জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় তাকে ৫ বছরের কারাদন্ড দেয়া হয়েছে। মামলাটিও সেনাসমর্থিত তত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দায়ের করা হয়েছিল।

জানুয়ারি ২০০৭-এ সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতা নেয়ার পর থেকে খালেদা জিয়া, তার পরিবার ও বিএনপির ওপর যে বিপর্যয় নেমে আসে তার ধারাবাহিকতা এখনো চলছে। ২০০৮-এ তার দুই ছেলেই সপরিবারে নির্বাসনে যেতে বাধ্য হন। নভেম্বর ২০১০-এ আদালতের এক রায়ের পর খালেদা জিয়াকে ৪০ বছরের বাসভবন ছেড়ে চলে যেতে হয়। রাজনৈতিক আন্দোলনে অবরুদ্ধ থাকা অবস্থার মধ্যে ২৪ জানুয়ারি ২০১৫ তার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান মালয়শিয়ায় নির্বাসনে থাকা অবস্থায় মারা যান।

ব্যক্তিগত জীবনে নানামুখী বিপর্যয়ের মধ্যে তিনি আবার জেলে গেলেন। জেনারেল এরশাদের সামরিক শাসনের (১৯৮২-১৯৯০) বিরুদ্ধে খালেদা জিয়া প্রথমবার দেশব্যাপী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এবং সফল হয়ে বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন।

রাজনীতিতে অনভিজ্ঞ অকালবিধবা এক গৃহিণী নিজেকে রূপান্তরিত করেছিলেন সফল নেত্রী রূপে। ১৯৯১-এ দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক আকাক্সক্ষা তিনি বাস্তবায়ন করেছিলেন। ১৯৯৬-এ তিনি নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের সাংবিধানিক ব্যবস্থা করেছিলেন এবং শান্তিপূর্ণভাবে সসম্মানে ক্ষমতা থেকে বিদায় নিয়েছিলেন। বিরোধী দলের আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ক্ষমতা থেকে বিদায় নিলেও মাত্র পাঁচ বছর পরই ২০০১ তার দল বিএনপি বিপুলভাবে ভোট দিয়ে তাকে দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রী করে।

খালেদা জিয়ার জন্ম হয়েছিল ১৫ আগস্ট ১৯৪৫ সালে দিনাজপুরে একটি সম্ভ্রান্ত ও সচ্ছল পরিবারে। তার পিতা ছিলেন ইস্কান্দার মজুমদার। মাতা ছিলেন তৈয়বা মজুমদার। ১৯৬০ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একজন অফিসার জিয়াউর রহমানের সাথে তার বিয়ে হয়। ৩০ মে ১৯৮১-এর রাতে চট্টগ্রামে একটি ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানের সময়ে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হন। তিনি তখন চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে অবস্থান করছিলেন। খালেদা জিয়া তার দুই শিশু ছেলেসহ ছিলেন ঢাকার ক্যান্টনমেন্টে তাদের বাসভবনে। আগস্ট ১৯৭৫-এর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর জিয়াউর রহমান ক্ষমতাসীন হলেও খালেদা গৃহবধূরূপে তার দুই ছেলে তারেক রহমান (ডাকনাম পিনো) এবং আরাফাত (ডাকনাম কোকো)-কে নিয়ে ছিলো গৃহবধুর জীবন।

রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শহীদ হওয়ার পর তদানীন্তন উপরাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তার অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির চেয়ারপারসন হন।২৪ মার্চ ১৯৮২ সালের ভোরে সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ একটি সামরিক ক্যুর মাধ্যমে বিচারপতি সাত্তারকে ক্ষমতাচ্যুত করেন। এরপর দলীয় রাজনীতিতে বিচারপতি সাত্তার প্রভাবহীন হয়ে পড়েন। তখন থেকে বিএনপির মধ্যে চাপ সৃষ্টি হয় খালেদা জিয়াকে রাজনীতিমুখী করতে। বিচারপতি সাত্তার রাজনীতি থেকে অবসর নিলে ১২ জানুয়ারি ১৯৮৪-তে খালেদা জিয়া হন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন। ১ মে ১৯৮৪-তে তিনি হন বিএনপির চেয়ারপারসন।

১৯৮৩ সালে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি সাতদলীয় জোট গঠন করে এবং এরশাদের স্বৈর শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। খালেদা জিয়া ৯ বছরব্যাপী আন্দোলনে এরশাদের অগণতান্ত্রিক সরকারের সাথে আপস করেননি। তিনি আপোসহীন নেত্রী হিসাবে পরিচিতি পান। এরশাদের পতনের পর ২৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৯১ সালে সংসদ নির্বাচনে বৃহত্তম দলরূপে বিএনপি আবির্ভূত হয়। খালেদা জিয়া পাচটি আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং পাচটি আসনেই বিজয়ী হন। এই অসাধারণ সাফল্যের পুনরাবৃত্তি ঘটে পরবর্তী সব নির্বাচনে।

৬ আগস্ট ১৯৯১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার সংবিধানের দ্বাদশ সংবিধানের মাধ্যমে দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনে। সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের সমর্থনে খালেদা জিয়া হন বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী। এরপর ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬ সালে ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি বিজয়ী হয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আওয়ামী লীগ এই নির্বাচন বয়কট করেছিল। খালেদা জিয়া পরপর দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য প্রধানমন্ত্রী হন। এই সংসদের আয়ু ছিল অল্প এবং এই সংসদে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার আইন পাস হয়। ২৫ মার্চ ১৯৯৬ সালে এই আইন কার্যকর হয়। ১২ জুন ১৯৯৬-এ একটি সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হয়। ১১৬টি আসনে বিজয়ী হয়ে বিএনপি হয় দেশের সংসদীয় ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বিরোধী দল। ১ অক্টোবর ২০০১-এর নির্বাচনে এই জোট সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ আসন পেয়ে বিজয়ী হয়। খালেদা জিয়া তৃতীয়বার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হন।

নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন অনুষ্টানে ব্যর্থতার প্রেক্ষাপটে ১১ জানুয়ারি ২০০৭-এ সেনাসমর্থিত একটি সরকার রাষ্ট্রপরিচালনার দায়িত্ব গ্রহন করে। ফখরুদ্দীন-মইন সরকার ৭ মার্চ ২০০৭ সালে খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান এবং ১৬ এপ্রিল ২০০৭-এ ছোট ছেলে আরাফাত রহমান গ্রেফতার হন। ২ সেপ্টেম্বর ২০০৭-এ খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধেও সেনাসমর্থিত সরকার দুর্নীতির দায়ে একটি মামলা করে। ৩ সেপ্টেম্বর ২০০৭-এ খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করা হয় এবং দ্বিতীয় সাব-জেলে বন্দী করা হয়। সবশেষে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেয়া হয় ১১ সেপ্টেম্বর ২০০৮-এ। মোট এক বছর এক সপ্তাহ তিনি জেলবন্দি ছিলেন।

২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে একটি বিধ্বস্ত দলকে নতুনভাবে সংগঠিত করার চেষ্টা করেন। এ বছর অনুষ্টিত নির্বাচনে খালেদা জিয়া ব্যক্তিগতভাবে তিনটি আসন থেকে নির্বাচিত হলেও তার দল বিএনপির শোচনীয় পরাজয় হয়। ৩৩ দশমিক ৩ শতাংশ ভোট পায় বিএনপি। আওয়ামী লীগ ৪৮ দশমিক ৩ শতাংশ ভোট পেয়ে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে বিজয়ী হয়। ৬ জানুয়ারি ২০০৯-এ শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদে শপথ নেন। খালেদা জিয়া হন সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা।

একটি নিরপেক্ষ ও নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীন পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি নিয়ে খালেদা জিয়া আন্দোলন শুরু করেন। এর অংশ হিসেবে ২৯ ডিসেম্বর ২০১৩ মার্চ ফর ডেমক্রেসি কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। কর্মসূচির আগে ২৭ তারিখ রাত থেকে বেগম খালেদা জিয়াকে তার বাড়িতে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। তিনি অবরুদ্ধ থাকা অবস্থায় ৫ জানুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তিনি নির্বাচন প্রতিরোধের ডাক দেন। ৫ শতাংশের কম মানুষ এই নির্বাচনে ভোট দেয়। এমনকি নির্বাচনে প্রার্থী না থাকার কারণে ১৫৪ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীদের বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। এই নির্বাচনের পর ৮ জানুয়ারি খালেদা জিয়ার বাসার সামনে থেকে অবরোধ তুলে নেয়া হয়।

পরের বছর ৫ জানুয়ারির দিন একতরফা নির্বাচন উপলক্ষে ঢাকায় সমাবেশের ঘোষণা দেয়া হয়। ৩ জানুয়ারি থেকে খালেদা জিয়ার চলাফেরার ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। এ দিন সন্ধ্যায় তিনি তার গুলশান কার্যালয়ে আসেন। এর পর থেকে তিনি সেখানে অবস্থান করেন। অবরুদ্ধ অবস্থার মধ্যে খালেদা জিয়ার জীবনে দুর্যোগ নেমে আসে। ২৪ জানুয়ারি ২০১৫ তার ছোট ছেলে মালয়শিয়ায় নির্বাসনে থাকা তার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো মারা যান। ২৭ তারিখ তার লাশ ঢাকা এসে পৌঁছে। ৯২ দিন তিনি গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অবরুদ্ধ ছিলেন।

খালেদা জিয়া বিভিন্ন নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। জানুয়ারি ১৯৯১, ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬, জুন ১৯৯৬ এবং অক্টোবর ২০০১-এর সাধারণ নির্বাচনের সময়ে এমপি পদের জন্য পাঁচটি নির্বাচনী আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা যেত। এই চারটি নির্বাচনেই খালেদা জিয়া পাঁচটি বিভিন্ন আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ওয়ান-ইলেভেনে (১১.০১.২০০৭) সামরিক ক্যুর পর নির্বাচনী আইন বদলে সর্বোচ্চ তিনটি আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিধান করা হয়। এরপর সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীন ডিসেম্বর ২০০৮-এর নির্বাচনে খালেদা জিয়া তিনটি আসনে দাঁড়িয়ে তিনটিতেই বিজয়ী হয়। অর্থাৎ জানুয়ারি ১৯৯১ থেকে ডিসেম্বর ২০০৮ সালে সুদীর্ঘ ১৮ বছরে মোট পাঁচটি সাধারণ নির্বাচনে যে সর্বোচ্চ ২৩টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা সম্ভব ছিল তার সব কয়টিতেই খালেদা জিয়া প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং সব ক’টিতেই বিজয়ী হন। বাংলাদেশের অন্য কোনো রাজনীতিক এই সাফল্যে পাননি। মোট ২৩টি আসনে তার প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা পঁচিশ লাখের বেশি। সম্ভবত এটি সংসদীয় নির্বাচনে একটি বিরল রেকর্ড। সন্দেহ নেই খালেদা জিয়া বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেত্রী। তার রাজনৈতিক উত্থান ঘটেছে নির্বাচনে, ভোটের রাজনীতির মাধ্যমে। আবার রাজনৈতিক কারনে বিপর্যয়ের মুখেও পড়তে হয়েছে।

Tuesday, June 9, 2020

রোহিঙ্গাদের ইতিহাস(Rohingya)

Who are the Rohingya


দশ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা মুসলমানকে 'বিশ্বের সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত সংখ্যালঘু' হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।রোহিঙ্গা জাতিগত গোষ্ঠী, যার অধিকাংশই মুসলিম, যারা বৌদ্ধ অধুষ্যিত মিয়ানমারে শতাব্দী বছর ধরে বসবাস করে।২০১৫ সালের রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট এবং ২০১৬ ও ২০১৭ সালের সেনাবাহিনীর অভিযানের পূর্বে মায়ানমারে ১.১ থেকে ১.৩ মিলিয়ন রোহিঙ্গা বাস করতেন। অধিকাংশ রোহিঙ্গা ইসলাম ধর্মের অনুসারি যদিও কিছু সংখ্যক হিন্দু ধর্মের অনুসারিও রয়েছে।২০১৩ সালে জাতিসংঘ রোহিঙ্গাদের বিশ্বের অন্যতম নিগৃহীত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী হিসেবে উল্লেখ করেছে।১৯৮২ সালের বার্মিজ নাগরিকত্ব আইন অনুসারে তাদের নাগরিকত্ব অস্বীকার করা হয়েছে।হিউম্যান রাইটস ওয়াচের তথ্যমতে, ১৯৮২ সালের আইনে “রোহিঙ্গাদের জাতীয়তা অর্জনের সম্ভাবনা কার্যকরভাবে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। ৮ম শতাব্দী পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের ইতিহাসের সন্ধান পাওয়া সত্ত্বেও, বার্মার আইন এই সংখ্যালঘু নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীকে তাদের জাতীয় নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকার করছে। এছাড়াও তাদের আন্দোলনের স্বাধীনতা, রাষ্ট্রীয় শিক্ষা এবং সরকারি চাকুরীর ক্ষেত্রে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।জাতিসংঘহিউম্যান রাইটস ওয়াচ মায়ানমারের রোহিঙ্গাদের উপর চালানো দমন ও নির্যাতনকে জাতিগত নির্মূলতা হিসেবে অাখ্যা দিয়েছে।

অষ্টম শতাব্দীতে আরবদের আগমনের মধ্য দিয়ে আরাকানে মুসলিমদের বসবাস শুরু হয়। আরব বংশোদ্ভূত এই জনগোষ্ঠী মায়্যু সীমান্তবর্তী অঞ্চলের (বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বিভাগের নিকট) চেয়ে মধ্য আরাকানের নিকটবর্তী ম্রক-ইউ এবং কাইয়্যুকতাও শহরতলীতেই বসবাস করতে পছন্দ করতো। এই অঞ্চলে বসবাসরত মুসলিম জনপদই পরবর্তীকালে রোহিঙ্গা নামে পরিচিতি লাভ করে। অধিকাংশ রোহিঙ্গা রাখাইন প্রদেশে বসবাস করে।দেশটিতে রাজ্যগুলির মধ্যে এটি সবচেয়ে দরিদ্র, মৌলিক পরিষেবা এবং প্রাথমিক ভাবে বেচে থাকার সুযোগের অভাব প্রচন্ড।চলমান সহিংসতা ও নিপীড়নের কারণে শত শত রোহিঙ্গারা প্রতিবেশী দেশগুলোতে বহু দশক ধরে ভূমির নিষিদ্ধ স্থল মাইন উপেক্ষা করে বা নৌকা দিয়ে পালিয়ে যায়।

অনেক ঐতিহাসিক ও রোহিঙ্গা গোষ্ঠীর মতে, ৮ শতকের গোড়ার দিকে মায়ানমার হিসেবে পরিচিত এই অঞ্চলে মুসলমানরা বসবাস করেছে।আরাকান রোহিঙ্গা ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন বলেছে: "রোহিঙ্গারা যুগে যুগে আরাকানে বাস করছে,তাদের বসবাসকৃত অংশই এখন রাখাইন নামে পরিচিত।"বৃটিশ শাসনের এক শত বছরের ভারত ও বাংলাদেশ থেকে কিছু শ্রমিক এখানে আগমন করে।স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অধিকাংশের শ্রমিকের স্থানান্তরকে নেতিবাচকভাবে দেখে থাকে।স্বাধীনতার পর, সরকার ব্রিটিশ শাসনের সময় যে অভিবাসনের কথা বলেছিল তা "অবৈধ" বলে মনে করা হতো, এবং এটি এই ভিত্তিতে যে তারা সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব প্রত্যাখ্যান করেছে, এইচআরডব্লিউ 2000 সালে একটি রিপোর্টে বলেছে।

1948 সালে ব্রিটিশদের কাছ থেকে মায়ানমারের স্বাধীনতার অল্প পরে, ইউনিয়ন সিটিজেনশিপ অ্যাক্ট পাস করা হয়, যার ফলে জাতিগুলি নাগরিকত্ব অর্জন করতে পারে।২011 সালের একটি রিপোর্ট অনুযায়ী ইয়েল ল স্কুল আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ক্লিনিক কর্তৃক রোহিঙ্গাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।তবে এই আইনটি মায়ানমারের নাগরিকদের পরিচয় পত্রের জন্য আবেদন করার জন্য কমপক্ষে দুইটি প্রজন্মের জন্য অনুমতি দেয়।রোহিঙ্গা প্রাথমিকভাবে এই ধরনের সনাক্তকরণ বা এমনকি জেনারেশন বিধান অধীনে নাগরিকত্ব দেওয়া হয়।এই সময়ে, বহু রোহিঙ্গাও সংসদে উপস্থিত ছিলেন।মায়ানমারের 196২ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর, রোহিঙ্গাদের জন্য নাগরিকত্বের অধীকারের নাটকীয়ভাবে পরিবর্তন হয়েছে।সমস্ত নাগরিকদের জন্য জাতীয় নিবন্ধীকরণ কার্ড প্রাপ্ত বাধ্যতা মুলক করা হয়।তবে, রোহিঙ্গাদের শুধুমাত্র বিদেশী পরিচয়পত্র দেওয়া হয়েছিল, যা চাকরি ও শিক্ষাগত সুযোগের মধ্যে সীমিত ছিল।198২ সালে, একটি নতুন নাগরিকত্ব আইন পাস করা হয়, কার্যকরভাবে রোহিঙ্গাদের তখনিই রাজ্যহীন করা হয়।আইন অনুযায়ী, রোহিঙ্গাকে পুনরায় দেশটির 135 টি জাতিগত গোষ্ঠী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি।আইনটি নাগরিকত্বের তিনটি স্তর প্রতিষ্ঠা করেছে।সর্বাধিক মৌলিক স্তরের (নেতিবাচক নাগরিকত্ব) প্রাপ্তির জন্য, 1948 সালের আগে মায়ানমারের বসবাসকারী ব্যক্তির পরিবারের প্রয়োজন অনুযায়ী, জাতীয় ভাষাগুলির মধ্যে একটির জানতে হবে।অনেক রোহিঙ্গাদের যা ছিলো না।আইন অনুযায়ী, তাদের অধ্যয়ন, কাজ, ভ্রমণ, বিয়ে, তাদের ধর্ম অনুশীলন এবং স্বাস্থ্য পরিষেবাগুলি অ্যাক্সেস করার অধিকার তাদের জন্য সীমাবদ্ধ করা হয়।

1970-এর দশক থেকে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের উপর কয়েকটি নিপীড়ন মুলক নির্যাতন করে প্রতিবেশী বাংলাদেশের পাশে পাশাপাশি মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও অন্যান্য দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলিতে পালিয়ে যাওয়ার জন্য হাজার হাজার লোককে বাধ্য করা হয়েছে। এই ধরনের ধকলের সময়, উদ্বাস্তুরা প্রায়ই মায়ানমার নিরাপত্তা বাহিনীর দ্বারা ধর্ষণ, নির্যাতন, অগ্নিসংযোগ ও হত্যার অভিযোগ করে।যা প্রায় বেশীভাগ ক্ষেত্রেই প্রমানিত হয়।

অক্টোবর 2016 সালে নয়টি সীমান্ত পুলিশের হত্যার পর, সরকার দাবি করে যে এটি একটি সশস্ত্র রোহিঙ্গা গ্রুপের কাজ এবং এই এক তরফা অভিযোগে সৈন্যরা রাখাইন রাজ্যের গ্রামগুলিতে ঢোকা শুরু করেছিল।সরকারী বাহিনী নিড়িহ রোহিঙ্গাদের বাড়ী ঘর জালিয়ে দেয়,জীবন্ত শিশুকে অগ্নিকুন্ডে নিক্ষেপ করে,ধর্ষন এখানে সরকারীবাহিনীর স্বাভাবিক কান্ডে পরিনত হয়। হাজার মানুষকে জীবন্ত গনকবর দেওয়া হয়।২006 সালের নভেম্বরে, জাতিসংঘের প্রধান মানায়মার সরকারে এই আচরনকে রোহিঙ্গাদের জাতিগত ভাবে নিশ্চিত করার অভিযোগে অভিযুক্ত করে।এটি প্রথমবারের মতো এমন একটি অভিযোগ ছিল না। এর আগে ২013 সালের এপ্রিল মাসে, এইচআরডব্লিউ বলেছে যে মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে জাতিগত শুদ্ধির প্রচারাভিযান পরিচালনা করছে।সরকার এই অভিযোগগুলি ক্রমাগতভাবে অস্বীকার করে আসছে।

২018 সালের ফেব্রুয়ারি মাসে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) এক ভিডিও প্রকাশ করে যাতে তারা দেখায় গণহত্যার জায়গা এবং মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের অন্তত পাঁচটি গণকবর কবর।মিয়ানমারের জাতিসংঘের বিশেষ দূত বলেছেন যে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সহিংসতা গণহত্যাকে চিহ্নিত করেছে।এইচআরডব্লিউ মায়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকাণ্ডকে "জাতিগত শুদ্ধি অভিযান" হিসাবে বর্ণনা করেছে এবং জাতিসংঘ ও মিয়ানমারের দাতাদেরকে ধ্বংসযজ্ঞের তৎক্ষণাত বন্ধের  দাবি জানানোর জন্য আহ্বান জানান। মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী গত বছর আগস্ট মাসে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে, মোট 36২ টি গ্রাম সম্পূর্ণভাবে বা আংশিকভাবে ধ্বংস করা হয়েছে বলে বলেন এইচআরডব্লিউ।

ব্যাপক নির্যাতনের কারণে 1970 দশকের শেষের দিকে মিয়ানমার থেকে প্রায় এক মিলিয়ন রোহিঙ্গা পালিয়ে যায়। মে মাসে জাতিসংঘের সবচেয়ে সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, 168,000 রোহিঙ্গা 2012 থেকে মিয়ানমার ছেড়ে গেছে।ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন অনুযায়ী গত বছরের শুরুতে সহিংসতা অনুসরণ করে 87,000 এরও বেশি রোহিঙ্গা অক্টোবর 2016 থেকে জুলাই ২017 পর্যন্ত বাংলাদেশ পালিয়ে যায়।অনেক রোহিঙ্গাও বঙ্গোপসাগর ও আন্দামান সাগর পার হয়ে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার চেষ্টা করে তাদের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছিল।২01২ এবং ২015 এর মধ্যে, 112,000 এর বেশি বিপজ্জনক যাত্রায় সামিল হয়েছিল।মিয়ানমারের উত্তরপশ্চিমাঞ্চলে সহিংসতা শুরু হওয়ার পর থেকে ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে গেছে, ইউএনএইচসিআর বলেছে।তারা আরও বলেছে যে মায়ানমারের 1000 জনেরও বেশী রোহিঙ্গা নিহত হয়েছে।

বাংলাদেশের প্রায় অর্ধ মিলিয়ন রোহিঙ্গা উদ্বাস্তু বাংলাদেশে বসবাস করছে। বেশিরভাগ অস্থায়ী ক্যাম্পে বসবাস করছে।আরও অনেকেই বসবাস করছে যাদের অধিকাংশই অ নিবন্ধিত। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশ আসা আটকাচ্ছে না মানবিক দিক বিবেচনা করে।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেপ্টেম্বরে রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে যান।রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির সফরকালে হাজার হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীকে ফেরত নেওয়ার অনুমতির দেবার জন্য জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মিয়ানমারের সরকারকে চাপ দেয়ার আহবান জানান।তিনি বলেন, বাংলাদেশ শরণার্থীকে সাময়িক আশ্রয় ও সাহায্য প্রদান করবে, তবে মিয়ানমারকে শীঘ্রই তাদের নাগরিকদের প্রত্যাহার করা উচিত।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় রোহিঙ্গাকে "বিশ্বের সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত সংখ্যালঘু" বলে চিহ্নিত করেছে।জাতিসংঘ বলেছে যে, "সম্ভবত" যে সামরিক বাহিনী রাখাইনের মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে তারা যুদ্ধাপরাধের জন্য দায়ী হতে পারে।

Sunday, June 7, 2020

টিপু সুলতান ইতিহাসের মহানায়ক (Tipu Sultan is great hero in history)

Tipu Sultan


টিপু সুলতান (জন্ম: ২০ নভেম্বর, ১৭৫০ - মৃত্যু: ৪ মে, ১৭৯৯) ছিলেন ব্রিটিশ ভারতের মহীশূর রাজ্যের শাসনকর্তা। তিনিএকজন বীর যোদ্ধা ছিলেন। ইংরেজদের বিরুদ্ধে তিনি বীরত্ব সহকারে যুদ্ধ করেন। তিনি তাঁর শৌর্যবীর্যের কারণে শের-ই-মহীশূর (মহীশূরের বাঘ) নামে পরিচিত ছিলেন।

দক্ষিণ ভারতের মহীশূর রাজ্যের শাসক ছিলেন টিপু সুলতান৷ পিতা হায়দার আলী মহীশূর রাজ্যের সেনাপতি ছিলেন৷ শ্রীরঙ্গপত্তনম গ্রামে কাবেরী নদীর একটি ব-দ্বীপে নির্মিত একটি দূর্গ থেকে রাজ্য শাসন করতেন৷ বর্তমানে শ্রীরঙ্গপত্তনম গ্রাম দক্ষিণ ভারতের কর্ণটক রাজ্যের মান্ডিয়া জেলার অন্তর্গত৷ ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর সঙ্গে যুদ্ধে ১৭৯৯ খ্রিস্টাব্দে নিহত হন। টিপুর এক সেনাপতি মীর সাদিক বিশ্বাসঘাতকতা করে ব্রিটিশদের সঙ্গে হাত মেলান৷ পরে তার পরিবারের মানুষজনকে ভেলোরের দূর্গে বন্দী করে রাখে ব্রিটিশ শাসকরা৷

টিপু সুলতানকে ডাকা হতো শের-ই-মহীশূর; উপাধিটা ইংরেজদেরই দেয়া। তাঁর এই বাঘ (শের) হয়ে ওঠার পিছনে অনেকগুলো বিষয় সম্পর্কিত ছিলো। মূল কারণ ছিলো তাঁর অসাধারণ ক্ষীপ্রতা, দক্ষতা, বুদ্ধিমত্তা আর কৌশলপূর্ণ রাজ্য পরিচালনা - বাবার সুযোগ্য উত্তরসূরি ছিলেন টিপু সুলতান। বাবা হায়দার, ১৭৪৯ খ্রিস্টাব্দে টিপু নামে এক ফকিরের দোয়ায় এক পুত্রসন্তান লাভ করেন এবং আনন্দচিত্তে ঐ ফকিরের নামেই ছেলের নাম রাখেন "টিপু"। মহীশূরের স্থানীয় ভাষায় (কানাড়ী ভাষা) 'টিপু' শব্দের অর্থ হলো বাঘ। হয়তো তাঁকে 'শের-ই-মহীশূর' ডাকার পিছনে এটাও একটা কারণ ছিলো।

ছোটবেলা থেকেই টিপু, বাঘের গল্প শুনতে ভালোবাসতেন। বাবাই তাঁকে বাঘের গল্প শোনাতেন। কিশোর বয়সে টিপু সুলতান বাঘ পুষতে শুরু করেন। বাঘ নিয়ে তাঁর ব্যঘ্রতার শেষ ছিলো না। বাবার মৃত্যুর পর তিনি যখন সিংহাসনে আরোহণ করলেন, তখন বাবার পুরোন সিংহাসনটি তিনি ঠিক পছন্দ করলেন না। তাই তিনি তৎকালীন শ্রেষ্ঠ কারিগর দিয়ে কাঠের ফ্রেমের উপর সোনার পাত বসিয়ে তার উপর মণিমুক্তা ও রত্নখচিত একটি সিংহাসন বানিয়ে নিলেন, যাকে বরং "ব্যাঘ্রাসন"ই (Tiger throne) বলা যায়। কারণ আট কোণা ঐ আসনটির ঠিক মাঝখানে ছিলো একটি বাঘের মূর্তি। ৮ ফুট চওড়া আসনটির রেলিংয়ের মাথায় বসানো ছিলো সম্পূর্ণ স্বর্ণে তৈরি দশটি বাঘের মাথা, আর উপরে উঠার জন্য ছিলো দুধারে, রূপার তৈরি সিঁড়ি। আর পুরো ব্যাঘ্রাসনটাই ছিলো বাঘের শরীরের মতো ডোরাকাটা।

টিপু সুলতানের রাজ্যের প্রতীক ছিলো বাঘ। এই বাঘ ছিলো তাঁর অনুপ্রেরণার মতো। তাঁর রাজ্যের পতাকায় কানাড়ী ভাষায় লেখা ছিলো "বাঘই ঈশ্বর"। তিনি সিংহাসনে বসে মাঝে মাঝেই বলতেনঃ
"ভেড়া বা শিয়ালের মতো দু'শ বছর বাঁচার চেয়ে বাঘের মতো দু'দিন বেঁচে থাকাও ভালো"

তাঁল সমস্ত পরিধেয় পোষাক ছিলো হলুদ-কালো রঙে ছাপানো আর বাঘের শরীরের মতো ডোরাকাটা। তিনি যে তলোয়ার ব্যবহার করতেন, তার গায়েও ছিলো ডোরা দাগ এবং হাতলে ছিলো খোদাই করা বাঘের মূর্তি। তাঁর ব্যবহৃত রুমালও ছিলো বাঘের মতো ডোরাকাটা। তাঁর রাজ্যের সমস্ত সৈনিকের পোষাকে থাকতো বাঘের ছবি। সৈন্যদের ব্যবহার্য তলোয়ার, বল্লম, বন্দুকগুলোর নল, কুদো, হ্যামারেও আঁকা থাকতো বিভিন্ন আকারের বাঘের প্রতিরূপ কিংবা মূর্তি। এমনকি তিনি তাঁর রাজ্যের প্রধান প্রধান সড়কের পাশে, বাড়ির মালিকদেরকে বাড়ির দেয়ালে বাঘের ছবি আঁকার নির্দেশ জারি করেছিলেন। তখনও তাঁর বাঘ পোষার বাতিক যায়নি এবং রাজবাড়িতে বেশ কয়েকটি পোষা বাঘ ছিলো। তার কয়েকটি আবার তাঁর ঘরের দরজার সামনে বাঁধা থাকতো।

টিপু সুলতানের ৪ জন স্ত্রী, ১৫ জন পুত্র এবং কমপক্ষে ৮ জন কন্যা সন্তান ছিল

টিপু সুলতান ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে ‍যুদ্ধ করেছিলেন। ১৭৯৯ সালের মহীশুরে টিপু সুলতানদের নিহত হওয়ার পরই ইংরেজরা নিশ্চিত হয়েছিলো তারা পুরো ভারতকে করায়ত্ব করতে পেরেছে। উল্লেখ্য ইংরেজরা নয়, টিপু সুলতানের খুব কাছের লোকদের বিশ্বাসঘাতকতার কারণেই টিপু সুলতানকে নিহত হতে হয়।

টিপু সুলতান সাধারণ কোন ব্যক্তি ছিলেন না। তিনি যুদ্ধবিদ্যায় অসম্ভব পারদর্শী ছিলেন। তিনি খুব অল্প সময়ের মধ্যে নিখুত যুদ্ধ প্ল্যান তৈরী করতে পারতেন, যা বর্তমান সময়ে চিন্তা করা অসম্ভব।

টিপু সুলতান নতুন সৌর ক্যালেন্ডার-এর উদ্ভাবন করেন, নতুন মুদ্রা প্রথার প্রচলন করেন, নতুন ইসলামী ব্যাংক ব্যবস্থার প্রচলনসহ আরো অসংখ্য জিনিস উদ্ভাবন করেন।

ইংরেজরা একমাত্র তার প্রতিরোধের কারণেই গোটা হিন্দুস্তান কব্জা করতে ব্যর্থ হচ্ছিল। একারণে তারা তাঁর বিরুদ্ধে মরিয়া হয়ে যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়। মহীশুর বাহিনীর সাথে ইংরেজ বাহিনীর ফয়সালাকারী যুদ্ধ সংঘটিত হয় ১৭৯৯ সালের মে মাসে। ৪ মে টিপু সুলতান শত্রু বাহিনীর মোকাবেলায় অবতীর্ণ হন। বিশ্বাসঘাতক পরিবেষ্টিত হয়ে তাকে যুদ্ধ করতে হয়। এমনকি তার ব্যক্তিগত সহচর গোলাম রাজা খানও তার সাথে চরম বিশ্বাসঘাতকতা করে।এভাবেই ভারত উপমহাদেশের একজন স্বাধীনচেতা, দেশপ্রেমিক, লড়াকু সৈনিক ও  অকুতোভয় আলেম শাসকের জীবনাবসান  হয়।

সুত্রঃ বাংলা উইকিপিডিয়া।